দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী দফার কৌশলগত (টেকনিক্যাল) বৈঠক পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন এবং চলমান কূটনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন এ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, বৈঠকের সম্ভাব্য দুটি ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদ ও সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্ট বিবেচনায় রয়েছে। তবে ইসলামাবাদেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আগামী ১১ জুলাই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এখনো চূড়ান্ত ভেন্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ জুলাইয়ের বৈঠক সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন উপলক্ষে কয়েক দিনের জন্য আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানাজা ও দাফন শেষে তেহরানের প্রতিনিধি দলের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, বিদেশে জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনায় বিরতির সময়ও কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এ সময় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সুইজারল্যান্ডে জুন মাসের আলোচনার পর কার্যকর হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, দীর্ঘ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগত পর্যায়ের বৈঠক শেষ হলে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে দোহায় দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমএস/